Weight Loss

অতিরিক্ত ওজনের কুফল এবং ওজন কমানোর ১০ টি উপায়।

আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শরীলে আলাদা আলাদা ভাবে যেমন উচ্চতা থাকে তেমনি উচ্চতা মাফিক নিজের শরীলের ওজন রাখা প্রয়জন। যদি ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয় তাহলে এই অতিরিক্ত ওজনের কারনে শরীলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি কারো ওজন অতিরিক্ত হয় এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয় তাহলে তাকে অবশ্যই তার ওজন নিয়ন্ত্রনের রাখা প্রয়োজন।

যদি ওজন নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায় তাহলে প্রধানত যে সমস্যা গুলো হয় সেগুল হচ্ছে হাটুর ব্যথা তাছাড়াও কোমরে ব্যথা হতে পারে আবার গোড়ালির নিচে এবং পায়ের পাতাও কিন্তু এরকম ব্যথা করতে পারে। যেকোন ব্যথার ক্ষেতে আমরা সাধারনত প্যরাসিটামল নিয়ে থাকি কিন্তু যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় তাদের অবশ্যই নিজের ওজন কে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে এসকল ব্যথা থেকে মুক্ত পেতে চাইলে এবং সঠিক জীবন যাপন করতে চাইলে।

ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য শুধু আমাদের খাদ্য অভ্বাস পরিবর্তন করলেই হবে না তার সাথে সাথে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের কিছু নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। আপনার ওজন বিভিন্ন কারনে বাড়তে পারে যেমন হরমনের কারনেও ওজন বাড়তে পারে আবার মেটাবলিক কোন কারনেও বাড়তে পারে আবার অন্যান্ন কারনেও কিন্তু এই ওজন বাড়তে পারে। আমাদের এই কারন গূলো খুজে বের করতে হবে এবং সেগুলো সমাধান করতে হবে।

ওজন কমানোটা একটি খুবই কঠিন জিনিস। কিন্তু আপনি যদি চান তাহলে খুব সহজ কিছু পদক্ষেপে আপনার ওজন কমাতে পারবেন। আমি ১০ টি টিপস দিবো আপনাকে আপনি যদি এগুলো সঠিক ভাবে অনুসরন করেন তাহলে খুব সহজেই ওজন কমাতে পারবেন। আর আপনি যদি নুন্যতম ওজন কমাতে পারেন তাহলে অনেক কিছু অর্জন করেছেন।

ওজন কমানোর ১০ টি টিপ্সঃ

১. ব্যয়ামঃ

ওজন কমানোর টিপস এ প্রথমেই আছে যে আপনাকে ব্যয়াম করতে হবে। এখন আপনি বলতে পারেন যে আমি ব্যয়াম কেনো করবো ব্যয়াম করলে কিভাবে আমার ওজন কমবে? এটা খুবই সিম্পল ধরে নেন আমি যে সারাদিন কাজ কর্ম করি, আমাদের শরীল থেকে যে পরিমান ক্যালরি বের হয় তা কিন্তু আমদের প্রতিদিনের খাবারেই তা পুর্ন হয়ে যায়। এখন দেখুন আমাদের কাজের ফলে নির্গত ক্যালরি এবং খাবারের সাথে পুর্ন ক্যালরি দুটোই কিন্তু সমান যার কারনে আমাদের ওজন টাও ঠিক থাকছে বাড়ছেও না আবার কমছেও না। এখন যদি আমরা বেশি ব্যয়াম করি তাহলে কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালরি ক্ষয় হবে এবং যেহেতু আমরা আগের মতই খাবার খাচ্ছি ত আমাদের খাবার তত বেশি ক্যালরি দিতে পারবেনা যার কারনে ঘাতটি ক্যালরিটা আমাদের ফ্যট থেকে কাটবে । এতে আমাদের ফ্যট বার্ন হবে ফলে আমাদের ওজন কমবে।

২. সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তা

আপনি কখনই আপনার সকালের নাস্তা বাদ দিবেন না। অনেক এ কি করে যে ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে। কিন্তু এমন কোন মতেই করা যাবে না। সকালের নাস্তাতে প্রচুর পরিমানের পুষ্টি থাকে এবং এতি যদি বাদ দেন তাহলে আপনার শরীলে পুষ্টি ঘাতটি দেখা দিবে। যার কারনে আপনি অসুস্থ হয়ে পারতে পারেন। এবং সারাদিন আপনার অনেক ক্ষিদে পাবে যার কারনে আপনি ভালো ভাবে ওজন কমাতে পারবেন না।

৩. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহন

আমরা অনেক এ আছি যারা সময়মত খাবার গ্রহন করি না। কিন্তু এমটা একদমই করা যাবে না। আমাদের উচিত সঠিক সময়ে খাবার গ্রহন করা। সময় মত খাবার গ্রহন করা। সময় মত খাবার গ্রহন না করলে আমাদের নানা ধরনের সমস্যা দিতে পারে। আমাদের এই দিকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। যদি নিজের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান এবং সবসময় সুস্থ থাকতে চান তাহলে সবসময় সময় মত খাবার খাবেন।

৪. পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

ওজন কমানোর জন্য আপনাকে সর্বদা পুষ্টি কর খাবার খেতে হবে। আপনাকে মিষ্টি জাতীও খাবার কার্বোহাইর্ডেট খাবার একদম কমিয়ে ফেলতে হবে। এবং চর্বি এবং ক্যালরি যুক্ত খাবার কে না বলুন। সব সমইয় ফল্মুল এবং সবুজ ফ্রেস শাক সবজি খাবেন সুস্থ থাকবেন। মিষ্টি টা একেবারে বাদ দিলে ভালো হয়।

৫. পানি পান করা

পানি পান করা

আমরা সকলেই জানি যে পানির ওপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাও করতে পারি না। আমাদের উচিত অতিরিক্ত পানি পান করা। আপনাকে অবশ্যই দিনে ৯ লিটার পানি পান করতে হবে। এবং খাওয়ার ঠিক আগের মুহুর্ত আপনাকে পানি পান করতে হবে। এটা ওজন কমাতে সাহায্য করে। আপনি যদি খওয়ার আগে পানি পান করেন তাহলে আপনার স্টোমাচ টা ফুল হয়ে যাবে এবং মনে হবে যে আপনার পেট ভরে গেছে যার ফলে আপনি খাবার কম খাবেন।

৬. ছোট প্লেটে খাবেন

সবসময় ছোট প্লেতে খেতে চেষ্টা করবেন। যদি আপনি এটি করেন তাহলে সাইকলজি ভাবে আপনার মনে হবে যে আপনি পরিমান মতই খাচ্ছেন। কিন্তু আপনি আগের থেকে কম খাচ্ছেন। এভাবে আপনার ওজন কমাতে পারবেন।

৭. ফাস্ট ফুড কে না বলুন

ফাস্ট ফুড কে না বলুন

আমরা অনেকেই বাহিরে কোথাও ঘুরতে গেলে একটু খুদা পেলে ফাস্টফুড খাই। কিন্তু এটা করাটা ঠিক না। ফাস্টফুড কে বেশি সুস্বাদু করতে এটাতে ভিবিন্ন পদের মসলা দিয়ে থাকে ভিবিন্ন পদের তেল চিনি লবন আরো অনেক। এবং ফাস্ট ফুডে অনেক ফ্যাট থাকে যেগুলো আমাদের জন্য একটুও ভালো না। আমাদের এই ফাস্টফুড গুলো এবোয়েড করা উচিত। এগুলো আমাদের ওজন এর সাথে সাথে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা করে থাকে। আমাদের হার্ট এ সমস্যা হয়। এগুলোর পোড়া তেল গুলো আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই আমাদের এগুলো কে সবসময় এবোয়েড করা উচিত।

৮. আশ জাতীয় খাবার

আশ জাতীয় খাবার

আমাদের সবসময় আশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। কেননা এটাতে অনেক পুষ্টি থাকে। অনেক ফাইবারও থাকে। এটা ওজন কমানোর জন্য খুবই কার্যকরি। আশ যুক্ত খাবার যেমন মিষ্টি আলু, সাজনা, ঢেঁড়স , কচুশাক, কলার মোচা ইত্যাদি। তাছাড়াও ফল এর মধ্যে রয়েছে কদবেল, পেয়ার,আমড়া এবং আলাফল ইত্যাদি এগুলোতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে এগুলো খেতে পারেন।

৯. লেবু ও গ্রীন টি

লেবু ও গ্রীন টি

কিছু পানীয় আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। যেমন লেবুর রস বা গ্রীন টি। গ্রীন টি এর উপকারিতা আমরা অনেকেই যানি এটা নিয়ে আমি আগামিতে আরেকটা পোস্ট করবো। আপনি ওজন কমানোর জন্য লেবুর রস এবং গ্রীন টি খেতে পারেন।

১০. কোন খাবার নিষিদ্ধ করবেন না।

কোন খাবারের প্রতি নিষেদাজ্ঞা রাখবেন না যে আমার এটা একদমই খাওয়া প্রয়জন নেই যেমনঃ মিষ্টি। এটা করলে কি হয় যে আমাদের যে জিনিস টার প্রতি বেশি নিষিদ্ধ থাকে সেই জিনিসটার প্রতি আরো আগ্রহ থাকে। তাই কোন জিনিস একেবারেই বন্ধ রাখবেন না। হ্যা খাবেন তাও আবার পরিমিত যাতে আপনার ক্ষতি না হয়।

উপসংহার

ওজন আমাদের দেহের জন্য গুরুত্বপুর্ন হলেও অতিরিক্ত ওজন কারো জন্য ভালো নয়। তাই আমাদের নিজের শরীলের যত্ন নিজে নিতে হবে। উপরের যেই ১০ টা টিপস দিয়েছি আশা করি সবাই অনুসরন করবেন এটার সাথে সাথে ভালো হয় যদি আপনি একটি ডাক্তারের পরামর্শ নেন কারন এক এক জনের শরীলের কন্ডিশন এক এক রকম হতে পারে। তাই ভালো হয় একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন। ভালো থাকবেন পোস্টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে সেয়ার করবেন। আমার আরো ভিবিন্ন হেলথ রিলেটেড পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply